থিংক  ডিফারেন্ট

সমাজকে এগিয়ে নেবার দায়িত্ব আমাদের সবার ।পৃথিবী আরো শান্তির স্থান হয়ে ওঠুক ,মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ,সহানুভূতিসহ সব মানবীয় গুণাবলী বাড়তে থাকুক ।নিত্য নতুন আবিষ্কারের নেশায় মেতে ওঠুক প্রজন্ম ।আর এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে 'থিংক ডিফারেন্ট ' ম্যাগাজিনের পথচলা ।

Showing posts with label সাহিত্য. Show all posts

হে প্রিয়, হে মোর জন্মভূমি, হে মোর বঙ্গভূমি।

2 comments :
প্রিয়া
জগদীশচন্দ্র রায়
Unversity  of  Calcutta
তুমি কেমন আছো? সুদীর্ঘ ত্রিশ বছর হ’ল তোমাকে ছেড়ে এসেছি। আর এই ত্রিশ বছরে আমি বাধ্য হয়েছি অন্যকে ভাল বাসতে, আপন করে নিতে। এখন, সেই আমার সব কিছু। কিন্তু তবুও আমি কিছুতেই ভুলতে পারিনা তোমাকে। কারণ, আমি অনেক কিছু পেলেও তুমি যা দিয়েছিলে সেটাকে আমৃত্যু মনে রাখতে চাই। মাঝে মাঝে মনে হয় ছুটে যাই তোমার কাছে। কিন্তু, আমি বন্দি হয়ে আছি নিয়ম কানুন আর কাঁটা তারের শৃঙ্খলে। তোমার আমার মাঝের বিভেদের এই দেওয়ালটা অনেক উঁচু। হয়তঃ এর উচ্চতা বাড়বে বই কমবে না। তবুও আমার সব চেয়ে বেশি দুঃখ কিসে জানো কি তুমি? সেটা হচ্ছে, তোমার কথা নির্দিধায় বলতেও পারিনা ভয়ে। তোমার আমার মাঝে মিলন হয়তঃ আর হবেনা! তবুও তোমার রূপের সৌন্ধর্য, আমাকে মাঝে মাঝে পাগল করে তোলে। নিজের অজান্তে চলে যাই তোমার কাছে। আমি এখনও যেন দেখতে পাই তোমার সেই সৌন্ধর্যকে অন্তরে অন্তরে। তবে জানি, এখন আর হয়তঃ আমি তোমাকে চিনতে পারবনা। বিবর্তন ও পরিবর্তনে এক সময়ের রূপ হারিয়া যায় কালের করাল গ্রাসে। তবুও আজকের তোমাকে চিনতে নাপারলেও আমার সেই পুরানো স্মৃতিকে বার বার মন্থন করে তৃপ্তি পেতে চাই। কারণ, তোমার রূপ রসইতো আমাকে তৈরী করছে হে প্রিয়, হে মোর জন্মভূমি, হে মোর বঙ্গভূমি।



ইমা এখনো আছি তোমার প্রতীক্ষায়

No comments :
ইমা এখনো আছি তোমার প্রতীক্ষায় |||

আজম মোহাম্মদ


 সেদিন ইমার কোমল হাত ছুঁয়ে হাঁটার সুভাগ্য হয়েছিলো আমরা দুজন পদচিহ্ন এঁকে দিচ্ছিলাম বালির বুকে একপাশে ছিলো সমুদ্রের বিষাদী কল্লোল অন্য পাশে সবুজের প্রতীক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঝাউবন। সেদিন আমরা বিষাদের কোনো উপত্যকায় ছিলাম না হঠাৎ ইমাকে প্রশ্ন করলাম……..
ইমা দেখছো ?
 আজিব!আমি অন্ধ নাকি  ?
না না।কিছু বলবো ?
গাধা! বলো। কি বলতে চাও।
ওই যে,  ওখানে ঢেউয়ের তালে তালে দোলিত যে ছোট্ট নৌকোটা ডুবুডুবু ওটার মতো যদি আমি ঢেউয়ের কাছে পরাজিত হয় কখনো ?
সেকি কবি হতে শিখেছো কবে মুচকি হেসে  
ইমা বলোনা,  প্লিজ
কি করবো আর। ডুবুরী হয়ে সমুদ্রের তলদেশে বিচরণ করবো আমার মুক্তা আহরণ করার জন্যে।
তাই নাকি ?
আর কিছু বললাম না।বললে যে ইমা রেগে যাবে তা জানতাম। আমরা এখন ঝাউবনের কচি কচি বৃক্ষরাজি ফাঁক করে হাঁটছি। এবার আমি আস্তে করে হাত ছাড়িয়ে নিলাম।
হাত ছাড়লে যে ?
না, এমনিতেই।  আরো একটু হাঁটলাম।হঠাৎ থেমে গেলাম আমি। ইমা আনমনে এগিয়ে যাচ্ছে। সে একাকীত্ব অনুভব করার সাথে সাথেই ফিরে তাকালো। এবার আমি জোরে জোরে হাঁটছি। ওর কাছে যেতেই শুনতে হলো অনুরাগের তপ্ত বাক্য। কিছু বললাম না।তারপর ………….. তখনো সন্ধ্যা নামেনি। তবু পাখিরা দল বেঁধে নীড়ে ফিরছে। সূর্যটা ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছে। তখনো হাঁটছি আমরা।
আচ্ছা ইমা,  ধরো,  চলার পথে আমাকে হঠাৎ থেমে যেতে হলো।তখন তুমি কি করবে ?
কি করবো মানে ? হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে যাবো । (গম্ভীর মুখেই বললো) আমি কিছু বললাম না অনেকক্ষণ  হঠাৎ হাত ধরে টান দিয়ে বললো
ওদিকে যাচ্ছো কোথায় ? দেখছো না, ওদিকে পানির কত বড়ো কূয়ো। ইমার হাতের ছোঁয়ায় আমি নিজেকে ফিরে পেলাম।
ইমা চলো ফিরে যাই।
চলো।আচ্ছা তুমি কি ভাবছিলে আমি এই উত্তর দিবো "আমিও তোমার সাথে থেমে যাবো। "?
কেন জানতো চাইছো এখন।
গাধা! যদি তাই বলতাম,তবে খুব খুশি হতে বুঝি! অথচ আমি তোমাকে যেভাবে কল্পনায় অনুভব করি তার চেয়ে আমার প্রানে, রক্তে, শিরা-উপশিরায় বেশি অনুভব করি তোমার উপস্থিতি। এখন নিজের উপর ঘৃণা জন্মালো।তখনি অবুঝ বালকের মতোই প্রশ্ন করলাম…….
ইমা, এত ভালোবাসো আমায় ?

না ঘৃণা করি।হাসতে হাসতে অকপটে বলে ফেললো। কিন্তু আমি জানি ওর হাসির গভীরতায় কি লুকিয়ে আছে।ততক্ষনে আমরা রাস্তার কাছাকাছি চলে এসেছি।এভাবেই চলতে লাগলো………… অতঃপর………….শুনলাম সে নাকি নিরবকে নিয়ে বেশ সুখেই আছে। জানতাম ভালবাসা এমনি হয়।যখন আষাঢ়-শ্রাবণে ঘোর বরষা নামে তখন প্রথম প্রথম ঝুম বৃষ্টি হলেও আস্তে আস্তে তার মাত্রা কমে আসে।শেষ অবধি থেমে যায়। আশার কথা হলো ঐ একি আকাশ হতে আবার বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।কিন্তু প্রথম যাকে ভালবাসা যায়,তার থেকে যে ভালবাসা পাওয়া যায় তা আর কারো কাছে পাওয়া যায়না।তাই আমি এখনো আছি ইমা তোমার প্রতীক্ষায়। তুমি আসবেনা আমি জানি। এতদিনে হয়ত বদলে গেছো অনেকখানি। অপেক্ষা করছি অবুঝের মতো । তবে কোনো ধোঁয়াটে নিকষ কালো রাতের বুকে ক্ষীণ আলো জ্বালিয়ে সিগারেটের বাক্স হাতে নয়। কেননা, একটা সিগারেটের কিছু বিষাক্ত ধোঁয়া আমার বিষাদকে মধুময় করতে পারবেনা। 



কানামাছি না জলহস্তি

No comments :
কানামাছি না জলহস্তি ...
নাফ নদীর তীরে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে বিবেক চোখে কালো কাপড় আর মুখে কলুুপ এঁটে- চুপ করে আছেন দাদারা । কারা অসহায় ? আমরা না দাদারা ? কালো কাপড় সরান, বলেন কিছু । বিশ্ব দরবারের কবাটে আর কত মাথা ঠুকাবো ? তোমরা কি এতই বুভুক্ষ যে- মানুষের রক্ত মাংস ছাড়া কিছই চলে না ? দিলে এই অত্যাচার বন্ধ হবে ? তোমরা কি কানামাছি ... না জলহস্তি ? কিছুই দেখো না ... তোমাদের দেহে কবে সুড়সুড়ি লাগবে ?



অভিলাষ মাহমুদ

এ্যাসিস্ট্যান্ট সাব এডিটর নিউজ চিটাগাং২৪



সেই সব দিন

3 comments :
সেই সব দিন



এখনও  কলাবনের গন্ধ  নাকে  আসে,
 গাংঙের ঘোলাটে জলে  হারিয়ে  ফেলি নিজেকে;
স্মৃতিকাতর  স্নায়ু আমার  -
নাড়ার ফাঁকে  ফাঁকে  গতরাতে ফেলে আসা
বড়শি তুলতে -
উঠে পড়ি খুব ভোরে  ।
ধানফুলের মাতাল  হাওয়া
আমাকে  শুইয়ে রাখতে রাখতে  চায়;
শ্রান্ত কাকের মত
একমাথা  রোদ্দুর নিয়ে ফিরি ঘরে ।

সদ্য  কেনা পায়রা দুটি  ফেরে নি বলে -
আলো  ফেলেছি ঘুমন্ত  গাছের  মগডালে
তনুদের বাড়ি গিয়েছি কতবার !
রাত্রির কূল  ঘেঁষে  হ্রদয়ের  গভীরে
কি এক অজানা  ভয়  তাড়িয়ে  বেড়াতো শুধু -

তবুও  আজ  সেই  সব দিন  মনে পড়ে
বিষন্নতার নির্বাক ব্যাপ্তির  ভিতরেও ।









writer
Antu Biswas  


যত দ্রুত সম্ভব শুরু করুন

No comments :
উইলিয়াম হেনরী গেটস বা বিল গেটস মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান, সাবেক প্রধান সফটওয়্যার নির্মাতা এবং সাবেক সিইও। একাধারে ১৩ বছর ধরে তিনি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি ছিলেন। বিল গেটস জীবন সাজাতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। তারই কিছু তুলে ধরা হলো- যত দ্রুত সম্ভব শুরু করুন কোনো চিন্তা-ভাবনা কিংবা কোনো কাজ কারও জন্য ফেলে রাখবেন না। যেটা চিন্তা করেছেন সেটা শুরু করুন, আর যেটা শুরু করেছেন সেটা চালিয়ে যান। মনে রাখবেন, নিজের চিন্তা-ভাবনা দিয়ে শুরু করা কোনো কাজ ভুল হলেও ভবিষ্যতে হয়ত সেটা আপনার কাজে লাগতে পারে অথবা সেটাও আপনাকে কোনো ভালো ফল দিতে পারে। প্রতিদিন নিজেকে সেরা উপহার দিতে হবে আপনি যা করবেন সেটাই আপনার বড় উপহার। সুতরাং এমন কিছু করবেন যেন ব্যর্থ হতে না হয় এবং আপনার করা কাজটি আপনার কাছে সব থেকে বড় উপহার হয়ে দাঁড়ায়। নিজেই নিজের বস হোন নিজেকে কখনও ছোট মনে করবেন না। কেননা একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন যে, পৃথিবীতে যারা বড় হয়েছে একদিন তারাও আপনার মত জায়গায় ছিল। আপনি যদি চেষ্টা করেন তাহলে আপনিও একদিন সেখানে পৌঁছতে পারবেন। আপনি যেখানেই কাজ করেন না কেন সবসময় মাথায় রাখবেন, আপনি আপনার বস। তাহলে সবসময় ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারবেন। প্রতিজ্ঞ এবং প্রত্যয়ী হোন প্রতিজ্ঞা একটি মানুষকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। প্রতিজ্ঞার সাথে আর একটি বিষয় দরকার সেটা হল প্রত্যয়ী হওয়া। যদি আপনি প্রতিজ্ঞ হোন এবং প্রত্যয়ীও হোন তাহলে আপনার কোনো কিছুই ব্যর্থ হবেন না। জীবনে উন্নতির জন্য এই দু’টা জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, জীবনই সেরা স্কুল এই কথাটা বলার কারণ হল, স্কুল থেকে আপনি যেটা শিখছেন; সেটা অপরের জ্ঞান আপনি গ্রহণ করছেন। কিন্তু বাইরের বৃহৎ পরিসর থেকে আপনি যে জ্ঞান গ্রহণ করছেন এর থেকে বড় স্কুল হতে পারে না। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জীবনকেই বড় স্কুল বলা হয়েছে। আশা হারাবেন না কোনো কিছুতে হার মানলে কখনও আশা হারাবেন না। মনে রাখবেন, যেটা হয় সেটা সবসময় ভালোর জন্য হয়। যে বিষয়ে আপনি হার মেনেছেন, আশা না হারিয়ে পুনরায় চেষ্টা করুন। হয়ত এর চেয়েও ভালো কিছু আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। আশা হারিয়ে ফেললে জীবনে অনেক পিছিয়ে পড়বেন। সমালোচনাকে স্বাগত জানান যেখানে দেখবেন সমালোচনা হচ্ছে সেখানে নিজেকে একটু অপেক্ষা করান। একটি সমালোচনায় অনেক শ্রেণির অনেক ধরনের মানুষ থাকে। একজন থেকে অন্যজন অবশ্যই আলাদা। সুতরাং আপনি যদি একটি সমালোচনায় নিজেকে উপস্থিত করান তাহলে অনেক কিছু শিখতে পারবেন। মানুষের চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে জানতে পারবেন। একটি সমালোচনা আপনার জন্য অনেক বড় একটি ভূমিকা পালন করে। সাফল্যের হিসাব করুন সাফল্য সবার জন্য নয়। সাফল্য অর্জন করতে হলে চাই অদম্য সাহস আর প্রতিভা। নিজেকে করতে হবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ও প্রত্যয়ী। আপনি যখন কিছু শুরু করবেন, সবসময় সেটার সাফল্য নিয়ে ভাববেন। পরবর্তীতে সেটা যদি বিফলেও যায় হতাশ না হয়ে তার পেছনে লেগে থাকুন এবং সাফল্যের জন্য অপেক্ষা করুন। জীবনটা সহজ নয় ‘জীবনে উন্নতি করবো’- এটা শুধু মুখে বললেই উন্নতি চলে আসবে না। জীবনটা এত সহজ নয়। জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপ অনেক কঠিন। আপনাকে জীবনে উন্নতি করতে হলে অনেক কঠিন কিছুর সম্মুখীন হতে হবে। তবেই না উন্নতি আসবে। জীবনটা অনেক কঠিন- এটা মেনে নিতে হবে।





অনুবাদ করেছেন :

Jagadish roy


(Unversity of Calcutta )





জনপ্রিয় পোষ্ট